মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৯ জুন ২০১৬

ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৬

 

‘অর্থ পুষ্টি স্বাস্থ্য চান, দেশি ফল বেশি খান’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৬ এর আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর  ফার্মগেটে আ. কা. মু.  গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটোরিয়াম চত্বরে ১৬ হতে ১৮ জুন তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। জাতীয় ফল প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী জনাব তোফায়েল আহমেদ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মাননীয় সভাপতি জনাব মো. মকবুল হোসেন এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আযাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সচিব জনাব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্।

এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে আ. কা. মু. গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটোরিয়াম চত্বর পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালি শেষে প্রধান অতিথি ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ  ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৬ এর উদ্বোধন করেন এবং স্টল পরিদর্শন করেন। ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৬ উপলক্ষে সকাল ১০টা ১৫মিনিটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটেরিয়াম, ফার্মগেট, ঢাকায় পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় দেশজ ফলের অবদান শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

আয়োজিত সেমিনারের প্রধান অতিথি  বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, সপ্তম-পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় নেয়া পণ্যের বহুমুখীকরণ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন হবে। এজন্য সরকার নন-ট্রাডিশনাল পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানির ওপর জোর দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কৃষিপণ্যের জন্য ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাটপণ্যকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে কৃষিপণ্যের তালিকায়। আর চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২৫ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশই এখন বিভিন্ন দেশে চাল রফতানি করে। এবার নজর দিতে হবে অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজতকরণ শিল্পের ওপর। মন্ত্রী বলেন, ১৯৭২-৭৩ সালে আমাদের রফতানির তালিকায় ছিলো মাত্র ২৫টি পণ্য। যা রফতানি হতো ৬৮ দেশে এবং আয় হতো মাত্র ৩৪৮ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু এখন আমরা রফতানি করি ১৯৬টি দেশে। চলতি বছরে রফতানির যে লক্ষ্যমাত্রা (৩৩.৫ বিলিয়ন ডলার) ধরা হয়েছে তা ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, যখন আমাদের পেটে ভাত চলে আসছে। এখন অন্যান্য ফসলের দিকে নজর দিতে হবে। গভীর অরন্যে হারিয়ে গেলেও মানুষ ফল ফলাদির ওপর নির্ভর করে থাকে। বাংলাদেশের ফল ওয়াল মার্টে যাবে। এটা কখনো কেউ ভাবতে পারেনি। দেশি ফল সম্পর্কে বিজ্ঞানী ও সম্প্রসারণকর্মীদের কাজ করার আহবান জানান। ফলের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি, স্বাদ বাড়ানো এবং পচনশীলতা রোধ, এ তিনটি কাজ করতে পারলে বাংলাদেশ ফলে আরও সমৃদ্ধ হবে।  কলার সিরাপ তৈরী করে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে গবেষণার আহবান জানান। 

সেমিনারে পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় দেশজ ফলের অবদান শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের  ভাইস চ্যান্সেলর ড. মো. মাহবুবর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে এআইএস কতৃ‍র্ক নির্মিত প্রতিপাদ্যভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জনগণকে সচেতন করতে পোস্টার, লিফলেট ও বুকলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ফলদ বৃক্ষ রোপণে উদ্বুদ্ধ করতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক ‘কৃষিকথা’ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ, জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ বেতার ও টেলিভিশনে ফলদ বৃক্ষ রোপণ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জাতীয় ফল প্রদর্শনী চলবে ১৮ জুন পর্যন্ত। মেলায় অঞ্চলভেদে বিভিন্ন ফলের পৃথক স্টল রয়েছে৷ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,  কৃষি তথ্য সার্ভিস, বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৭৫টি স্টল বসেছে প্রদর্শনীতে। মেলায় প্রায় ১৩০ প্রজাতির ফলের একাধিক জাত প্রদর্শিত হচ্ছে। মেলা প্রতিদিন প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় আগত দর্শণার্থীরা রাসায়নিকমুক্ত বিভিন্ন জাতের ফল ক্রয় করতে পারবেন। ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৬ উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ সবের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে ফলের চারা/কলম বিতরণ, সেমিনার, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি।


Share with :