মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৪ মার্চ ২০১৮

৩২ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৩’ দিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশন তারিখ : 2018-03-01

কৃষি খাতে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ছয়জন ব্যক্তি ও ২৬টি প্রতিষ্ঠানসহ ৩২ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৩ প্রদান করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃষি খাতে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় এ পুরস্কার প্রদান করেন। পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি স্বর্ণপদক, নয়টি রৌপ্যপদক এবং ১৮টি ব্রোঞ্জপদক। মেডেল ও সনদের পাশাপাশি স্বর্ণপদকপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে নগদ ১ লাখ টাকা, রৌপ্যপদকপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার ও ব্রোঞ্জপদকপ্রাপ্তদের ২৫ হাজার টাকা করে প্রদান করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

মাননীয় কৃষিমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ পুরস্কার বিতরণ অধিবেশন পরিচালনা করেন।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৩ প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে শুরুতে স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু কৃষিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, জাতির পিতার রাজনীতির লক্ষ্যই ছিল শোষণ, বঞ্চনা, অবহেলা থেকে মুক্ত করে বাংলার আপামর মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো। মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর পরই জাতির পিতার লক্ষ্য ছিল কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধি আনয়ন। সেলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু স্বল্পমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরি ও পুনর্গঠন, খাদ্য মজুদের জন্য খাদ্য গুদাম তৈরি, সেচ কাঠামো তৈরিসহ সুদূরপ্রসারি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। কৃষি উৎপাদনে উৎসাহ জোগাতে জাতির পিতা ১৯৭৩ সালে ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার’ তহবিল গঠন করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবসময়ই কৃষিবান্ধব। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কৃষি উন্নয়নের যে জয়যাত্রা শুরু করেছিলেন বর্তমান সরকার তা অনুসরণ করে সে অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখেছে। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের সময় ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল উল্লেখ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময়ে সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে ৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পরেও কেউ না খেয়ে মারা যায়নি বরং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছিল। বাংলাদেশকে আমরা ২০০১ সনে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রেখে দায়িত্ব হস্তান্তর করলেও আবার ২০০৯ সালে সরকার গঠনের সময় আবারও ৩০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। ফলে সরকার গঠনের পর পরই কৃষি উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং সুসংগঠিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় সার নিতে যেয়ে কৃষককে বুকের রক্ত ঝরাতে হয়েছিল। আমরা সরকার গঠনের পর সারের মূল্য হ্রাসসহ সারকে সহজলভ্য করেছি। কৃষি গবেষণায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিয়েছি। ফলে নিত্য নতুন উপযোগী জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হচ্ছে। ফলে এখন শুধু নির্দিষ্ট মৌসুমেই নয় সারাবছরই শাকসবজির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হয়েছে। বিএডিসিকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করা হয়েছে ফলে মানসম্মত বীজ সরবরাহ অনেকগুণ বেড়েছে। বিভিন্ন নদী, খাল, জলাশয় সংস্কার করে মাছ চাষ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সেচের পানি সরবরাহে ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেচ কাজে কৃষকের বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ হারে ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে। কৃষকের কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড চালু করা হয়েছে। ১০ টাকায় কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সরকারি প্রণোদনাসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ দারিদ্রবিমোচনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব হচ্ছে। সমবায়ের মাধ্যমে কৃষিপণ্য বাজারজাত করে কৃষকের ন্যায্য মূল প্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজতকরণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণকে আরও প্রসারিত করার লক্ষ্যে ৫০-৭০ শতাংশ উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কৃষি জমিকে অকৃষি কাজে ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করতে জৈব কৃষিকে উৎসাহিত ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মাটি, জলবায়ু ও এলাকা উপযোগী ফসল নির্বাচন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ‘ক্রপ জোনিং ম্যাপ’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এসব প্রচেষ্টার ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ধানসহ বিভিন্ন ফসল ও মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আসীন হয়েছে। শিক্ষা কারিকুলামে হাতে কলমে কৃষি কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের বিষয় অন্তর্ভূক্ত করার উপর গুরুত্ব দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কৃষিকাজে উৎসাহিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা শিল্পায়নের দিকে অগ্রসর হব তবে কৃষিকে বাদ দিয়ে নয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কারও কাছে হাত পেতে নয় বরং আত্মমর্যদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্ব সভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। সরকারের ধারবাহিকতার কারণেই দেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল। জাতির পিতার আকাঙ্ক্ষাই ছিলো উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা প্রতিষ্ঠা করব এবং সেলক্ষ্যে কৃষি আমাদের মূলশক্তি বলে কৃষিকে সবচেয়ে বেশি গুরু্ত্ব দেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্ত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের সফলতা কামনা করেন এবং তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জানতেন উন্নয়নের মূল স্রোতে কৃষিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাই সদ্য স্বাধীন দেশে তিনি কৃষি উন্নয়নে সুদূরপ্রসারি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এরই লক্ষ্যে জাতির পিতা ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ প্রবর্তন করেন। এটি কৃষিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। কৃষিতে জড়িত সবাইকে উৎসাহিত, অনুপ্রাণিত করতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। মাননীয় মন্ত্রী কৃষি উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন বলেন সবার অংশগ্রহণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলব এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

সভাপতির বক্তব্যে মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর চিন্তা ও দর্শনের মধ্যে চিরকালই তিনি লালন করেছেন বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু গ্রামের কৃষক-ক্ষেতমজুর-শ্রমজীবী মানুষকে। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন গ্রাম-ভিত্তিক বাংলার উন্নতি মানে দেশের উন্নতি। তাই স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ১৯৭২-৭৩ সালে ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে কৃষি উন্নয়নের জন্য ১০১ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিলেন। উন্নয়নের মূলধারায় কৃষিকে অগ্রাধিকার দেয়ার ফলে ১৯৭৩ সালের মধ্যেই ধ্বংসপ্রাপ্ত কৃষি-অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ করা সম্ভব হয়েছিল। কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে বঙ্গবন্ধু কৃষিতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের জন্য কৃষি ব্যাংক স্থাপন করেন। ১৯৭৪ সালে বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছিলেন। কৃষি উৎপাদনে গতিশীলতা আনয়নসহ কৃষককে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৩ সালে প্রবর্তন করেছিলেন জাতীয় কৃষি পুরস্কার।

জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণের সঞ্চার করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেলেও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় তিনগুণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কৃষির উন্নতির জন্য বহুমুখী বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, কৃষি বিষয়ক গবেষণা কাজে উৎসাহ প্রদান এবং কৃষকের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ফলে খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।

মাননীয় কৃষিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমাদের সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসাবে কৃষিতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ই-কৃষি উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে ৫০-৭০ শতাংশ হারে উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বীজ কৃষির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক উপাদান। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ফলে বিভিন্ন ফসলের জন্য চাহিদামাফিক মানসম্মত বীজের উল্লেখযোগ্য অংশ সরকারি খাত থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। কৃষি গবেষণা কাজে নিয়োজিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ফসলের উচ্চফলনশীল নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। বিশ্বে সর্বপ্রথম জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবনসহ এন্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ধান, প্রো-ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ধান, ডায়াবেটিক ধান এবং জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। জীব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বে সর্বপ্রথম দেশি ও তোষা পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এরই মধ্যে পাটের ৩টি নতুন জাত আবিষ্কার করা হয়েছে। ভূ-উপরিস্থ পানি অধিক ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন জলাশয় সংস্কার করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য সৌরচালিত পাতকুয়া স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে  ভূ-গর্ভস্থ পানি সহজলভ্য নয় সে সব এলাকা বিশেষ করে বরেন্দ্র এলাকায় এ পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করে শাক-সবজি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। সাশ্রয়ী মূল্যে সেচের জন্য প্রি-পেইড স্মার্টকার্ড পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। সেচকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলে ২০% হারে রিবেট প্রদান করা হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সরবরাহ ও ন্যায্য দাম প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণসহ নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘জাতীয় জৈব কৃষি নীতি ২০১৬’ বাস্তবায়নাধীন আছে। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিষমুক্ত উচ্চমূল্য সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। মাটি, জলবায়ু ও এলাকা উপযোগী ফসল নির্বাচন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ‘ক্রপ জোনিং ম্যাপ’ প্রণয়ন করা হয়েছে। শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধির জন্য একই জমিতে বছরে ২-৩টি ফসলের পরিবর্তে ৪টি ফসল অন্তর্ভুক্ত করে নতুন নতুন ফসল বিন্যাস প্রচলনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলবর্তী ১৪টি জেলার কৃষি উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে মাননীয় কৃষিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন এসব পরিকল্পনা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চল পুনরায় খাদ্যভাণ্ডারে রূপান্তরিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে মোট ৫০ টি উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত আছে।

 

মাননীয় কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্নমুখী নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য কৃষিজ পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় গত কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমূখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ০৯ বছরে খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। একইভাবে অন্যান্য দানাদার, ডাল, তেল শস্যসহ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যশস্য এবং বিভিন্ন শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনেও অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বর্তমান জনবান্ধব সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের ফলে ধান, সবজি, আম, আলু, পেয়ারা ও মাছ উৎপাদনে পৃথিবীতে এসব কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী সর্বোচ্চ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখাসহ আগামী দিনের কৃষিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কৃষি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার আরও উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করবে বলে মাননীয় মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টায় আমরা দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। কৃষি উন্নয়নের অব্যাহত ধারবাহিকতায় বাংলাদেশ এখন চাল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ, শাকসবজি উৎপাদন বৃদ্ধির হারে তৃতীয়, পাট উৎপাদনে দ্বিতীয় ও কাঁচা পাট রপ্তানিতে প্রথম, আলু ও পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, আম উৎপাদনে সপ্তম, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে পঞ্চম। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষিতে অনুপ্রেরণা জোগাতে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রবর্তন করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রবর্তিত এ পুরস্কার প্রদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন ২০১৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে এ পুরস্কার প্রবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট 1073 ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে কৃষি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। ১৪২৩ বঙ্গাব্দে ১০টি ক্যাটাগরিতে মোট ৩২জন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। পুরস্কার বিজয়ীরা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আরও অনুপ্রাণিত হবেন এবং অন্যরাও উৎসাহিত হবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

স্বর্ণপদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন : মৎস্য অধিদপ্তর, পাবনা ভাঙ্গুড়ার আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন এমপি, ভোলা মনপুরার জনাব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. রাখহরি সরকার, কিশোরগঞ্জ কুলিয়ারচরের উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম।

রৌপ্যপদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন : ঢাকার গোল্ডেন বার্ন কিংডম প্রাঃ লিঃ, ঝিনাইদহ সদরের উপজেলা কৃষি অফিসার ড. খান মোঃ মনিরুজ্জামান, কুমিল্লা বুড়িচংয়ের উপসহকারী কৃষি অফিসার মোসাঃ সুলতানা ইয়াসমিন, ময়মনসিংহ মুক্তাগাছার উপসহকারী কৃষি অফিসার জনাব মোঃ সেলিম রেজা, খুলনা দৌলতপুরের বেগম সালেহা ইকবাল, ঢাকা গুলশানের জনাব সাখাওয়াত হোসেন, নওগাঁ রানীনগরের জনাব মোঃ ইসরাফিল আলম এমপি, চট্টগ্রাম পটিয়ার (কর্ণফুলী) জনাব মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন হায়দার, ঝিনাইদহ সদরের বেগম লাভলী ইয়াসমিন।

ব্রোঞ্জপদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন :  নীলফামারী সৈয়দপুরের মেসার্স ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ, কুষ্টিয়া মিরপু্রের উপসহকারী কৃষি অফিসার জনাব মোঃ বকুল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজারের উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোহাম্মদ আবদুল কাদির, মানিকগঞ্জ শিবালয়ের জনাব মোঃ আমজাদ হোসেন, জামালপুরের জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার কৃষিবিদ শেখ মোঃ মুজাহিদ নোমানী, টাঙ্গাইল দেলদুয়ারের জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম খান, রংপুর মিঠাপুকুরের ময়েনপুর কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি), কিশোরগঞ্জ পাকুন্দিয়ার জনাব মোঃ নিজাম উদ্দিন, যশোর সদরের বেগম ফারহানা ইয়াসমিন, সাতক্ষীরা কলারোয়ার শিখা রানী চক্রবর্তী, মাগুরা সদরের জনাব মোঃ বাবুল আক্তার, পিরোজপুর সদরের জনাব শেখ হুমায়ুন কবির, ঝালকাঠি সদরের জনাব মোঃ মাহফুজুর রহমান, ঠাকুরগাঁও সদরের জনাব মোঃ মেহেদী আহসান উল্লাহ চৌধুরী, বান্দরবান সদরের জনাব সিংপাত ম্রো, রাজশাহী গোদাগাড়ীর বরেন্দ্র গালিজ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি, কুষ্টিয়া মিরপুরের চিথলিয়া সিআইজি (ফসল) সমবায় সমিতি লিঃ, কুমিল্লা লাকসামের জনাব ছারোয়ার আলম মজুমদার বাবুল।

 

‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ কৃষি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা। কৃষির উৎকর্ষ সাধনে অবিরত প্রচেষ্টারত কৃষক-কিষানি, সম্প্রসারণকর্মী, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ এবং কৃষির সাথে সম্পৃক্ত সংস্থাগুলোকে উৎসাহিতকরণে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে।


Share with :
Facebook Facebook